1. admin@englishbangla24.com : admin :
ফুলবাড়ী’র নাওডাঙ্গা ইউনিয়নের চর-গোড়ক মন্ডপ ও গোড়ক মন্ডপ এলাকার প্রায় সব রাস্তার বেহাল অবস্থা - English Bangla 24
শুক্রবার, ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৪, ১০:৩৭ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম:
লালমনিরহাটে যথাযোগ্য মর্যাদায় ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন লালমনিরহাটে মাদক বিরোধী অভিযানে আটক ৫ মোহাম্মদ জমির উদ্দিন এর সংক্ষিপ্ত জীবন বৃত্তান্ত;- আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে ভোট গ্রহণ কর্মকর্তাগণের প্রশিক্ষণ কর্মশালায় মতিয়ারের নৌকা প্রতিকে ভোট দেয়ার প্রকাশ্যে সমর্থন দিলেন ইস্কন ভক্তরা লালমনিরহাটে হরিজন সম্প্রদায়ের সাথে মতবিনিময় সভা ফুলবাড়িতে স্কুল ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে ধর্ষক গ্রেফতার নৌকাই ভরসা, সেটা মাথায় রাখতে হবে- হাসিনা দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে লালমনিরহাটে পৃথক তিন আসনে ১৯ প্রার্থী ভোটের মাঠে লালমনিরহাট থেকে যারা প্রার্থীতা প্রত্যাহার করলেন

ফুলবাড়ী’র নাওডাঙ্গা ইউনিয়নের চর-গোড়ক মন্ডপ ও গোড়ক মন্ডপ এলাকার প্রায় সব রাস্তার বেহাল অবস্থা

আব্দুর রাজ্জাক রাজ, ফুলবাড়ী (কুড়িগ্রাম)
  • Update Time : বৃহস্পতিবার, ৩১ আগস্ট, ২০২৩
  • ২৩৫ Time View


আব্দুর রাজ্জাক রাজ, ফুলবাড়ী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি:
কুড়িগ্রাম জেলার ফুলবাড়ী উপজেলাধীন নাওডাঙ্গা ইউনিয়নের চর-গোড়ক মন্ডপ ও গোড়ক মন্ডপ এলাকাটি সীমান্ত ঘেষা এবং ধরলা ও বারোমাসিয়া নদীর তীরে অবস্থিত । এ লোকালয় দুটি নাওডাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদ থেকে পশ্চিম দক্ষিন ও পশ্চিম উত্তরে প্রায় ৩ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত । এসব এলাকায় প্রায় ৮ থেকে ১০ হাজার মানুষের বসবাস ।এ জনপদে রয়েছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ বিজিবি ক্যাম্প, কমিউনিটি ক্লিনিক, আবাসন, নির্মাণাধীন মুজিব কেল্লা, মসজিদ, মন্দির , বিডিআর বাজার, আনন্দ বাজার ও হাজার হাজার একর ফসলি জমি ।এখানকার এসব কিছু স্বাভাবিক রাখতে হলে দরকার স্বাভাবিক যোগাযোগ ব্যবস্থা । কিন্তু এ জনপদে পরিদর্শনে গিয়ে দেখা যায়, বার বার আকস্মিক বন্যার কারণে এখানকার প্রধান প্রধান রাস্তাগুলোর প্রায় ৯৯% রাস্তার করুন অবস্থা যা যোগাযোগের জন্য একিবারই অযোগ্য । তবে কোথাও কোথাও স্থানীয় জনগন তাদের নিজ উদ্দ্যেগে কোনমতে চলাচলের যোগ্য করে তোলার চেষ্টা করছে ।
পশ্চিম ফুলমতি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে প্রায় ১ কি.মি পশ্চিমে এক ভয়াবহ পুরাতন ও প্রাচীন ব্রীজ দেখতে পাওয়া যায়, (বাগমারা ব্রীজ) যা গত কুড়ি বছর ধরে ঝুকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে । যা এখনও কোন কর্তৃপক্ষের দায়িত্বে আসে নাই বলে মনে করে এলাকাবাসি । এই ব্রীজের পশ্চিম প্রান্ত থেকে উত্তর দিকে নেঞ্জার কুটি লোকালয় (গোড়ক মন্ডপ গ্রাম) যাওয়ার একমাত্র রাস্তাটি ধরলা ও বারামাসিয়া নদীতে বন্যার দরুন পানির চাপে প্রায় ৫০ মিটার রাস্তা ভেঙ্গে যায় প্রায় গত ৩ মাস আগে । গ্রামবাসি অনেক দিন দূর্ভোগে যাতায়াত করার পর কারো কোন সাড়া শব্দ না পেয়ে এ মাসের শুরুর দিকে তারা নিজেরাই বাঁশের সাঁকো তৈরী করে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতেছে । এ নেঞ্জারকুটি নামক স্থানে রয়েছে একটি দাখিল মাদ্রসা ও একটি প্রাইমারী স্কুল ।
এ বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে এখানকার নুরইসলাম নামে একজন বলেন, এই রাস্তা ভেঙ্গে যাওয়ায় আমাদের দীর্ঘ ২ মাস বাজার-ঘাট, জীবিকা নির্বাহে ব্যাঘাত ঘটে ও ছেলে-মেয়েরা ঠিকমত তাদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যেতে পারে নাই ।আমরা স্থানীয় সরকার প্রধানকে জানায়ছি, উনার অপেক্ষায় না থেকে নিজেরাই চাঁদা তুলে বাঁশের সাঁকো তৈরী করেছি এবং ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছি ।
শ্রী কমল বিশ্বাস ও একরামুল বলেন, জন দূর্ভোগে স্থানীয় মেম্বার-চেয়াম্যানকে তেমন পাওয়া যায় না, তবে সাঁকো তৈরীতে মুক্তিযোদ্ধা ডা: হামিদুল হক খন্দকার ৩ হাজার টাকা সাহায্যে করেছেন । গোড়ক মন্ডপ এর ইউপি সদস্য জনাব শ্যামল চন্দ্র মন্ডল এক সাক্ষাৎকারে বলেন, “জনগন দূর্ভোগে আমার কি করার আছে , আমার নিজেরিই জান বাঁচে না।”
অন্যদিকে চর গোড়ক মন্ডপ এরে ইউপি সদস্য জনাব আয়াজ উদ্দিনের বাসা থেকে উত্তরে আনন্দ বাজার যাওয়ার রাস্তাটি একেবারেই বেহাল অবস্থা, চলাচলের অযোগ্য । এ রাস্তার ছোট ছোট ছোট কালভার্ট গুলো বন্যায় সড়ে গিয়ে ছোট বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে ।এ রাস্তা দিয়ে একজন রোগী নয়, সুস্থ মানুষ গেলেও অসুস্থ হয়ে পড়ে ও দূর্ঘটনার স্বীকার হয় বলে এ গ্রামের বাসিন্দা এমদাদুল হক ও তার প্রাইমারী শিক্ষক স্ত্রী শেফালী ক্ষোপ প্রকাশ করেন ।
চড় গোড়ক মন্ডপ-এর আনন্দ বাজার থেকে হক বাজার ও খারুয়া বাজার যাওয়ার রাস্তাটি দিয়ে এখন যাতায়াত করলে দেখা যায় ১০০ মিটার পর পর কয়েক জায়গায় বিশাল গর্ত হয়ে পানি জমাট বেঁধে রয়েছে । পুরাতন আবাসনের একটি বিল্ডিং রাস্তার ধারেই । এ বিল্ডিং সংলগ্ন রাস্তাটি এবারের ১ম বন্যায় দৈত্য আকৃতির একটি গর্তের জন্ম দিয়েছে , যা দিয়ে কোন মতেই চলাচল করা সম্ভব নয় বলে এলাকাবাসি জানিয়েছে । উক্ত পুরাতন আবাসন থেকে ২০০ মিটার উত্তর দিকে বীর মুক্তি যোদ্ধা শামছুল হকের বাড়ির নিকটে প্রদত্ত রাস্তা দুটি’র প্রায় ৫০ মিটার করে ভেঙ্গে গভীর গর্ত হয়ে আছে । এ রাস্তাদ্বয় সম্পর্কে আমিলা নামে এক বয়স্ক মহিলা বলেন, আমি এ রাস্তা দিয়ে ভয়ে যাতায়াত করি না । কারণ এখানে অনেক বড় গর্ত আছে । প্রয়োজনে এদিক ওদিক যেতেও পারি না । হাসেন আলী ও কাইয়্যুম মিয়া বলেন, এখন তো হাটুর উপরে পানি কয়েকদিন আগে একমানুষ গভীর পানি ছিল আমরা বাজার-ঘাট করতে পারি নাই । যোগাযোগের এ বেহাল অবস্থার কারণে আমরা অতি কষ্টে জীবন-যাপন করে আসছি ।
জহুরুল হক বলেন, আমার স্ত্রীকে এ রাস্তা দিয়ে হাসপাতালে নিয়ে যেতে পারছি না, কখন যে কি ঘটে । অটোচালক জয়নাল বলেন, আমি অটো চালিয়ে জীবন বাঁচাই, এই ধরনের রাস্তা দিয়ে অটো বাইরে নিয়ে যেতে পারছি না, ছেলে-মেয়ে নিয়ে অতি কষ্টে আছি ।

চর গোড়ক মন্ডপ এর ইউপি সদস্য জনাব আয়াজ উদ্দিন বলেন, পর পর কয়েকবার সৃষ্ট বন্যার কারেণে রাস্তাগুলোর এ বেহাল অবস্থা । এ এলাকার ছেলে মেয়েরা ঠিকমত স্কুল-কলেজে যেতে পারছে না, রোগীকে নিয়ে হাসপাতালে নিতে পারছে না, সাধারণ মানুষ যাতায়াতে দূর্ভোগের স্বীকার হচ্ছে ।এই রাস্তা এবং রাস্তা থেকে সৃষ্ট সমস্যাগুলো আমরা কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি । বরাদ্দ প্রক্রিয়াধীন । বরাদ্দ হাতে পেলেই আমরা কাজ শুরু করে দিবো ।
নাওডাঙ্গা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মহোদয় জনাব হাসেন আলী ফোন আলাপে বলেন, রাস্তাগুলো আমি পরিদর্শন করেছি । খুব শীঘ্রই কাজ শুরু করবো ।
এলজিইডি ফুলবাড়ী উপজেলা প্রকৌশলী জনাব আসিফ ইকবাল রাজিব ফোন আলাপে বলেন, আমি এ রাস্তাগুলোর বেহাল অবস্থার খবর আপনার মাধ্যমে প্রথম শুনলাম ।যদি এ রাস্তাগুলো এলজিইডি’র গেজেড ভুক্ত হয়ে থাকে তাহলে খোঁজ-খবর নিয়ে দেখবো ।
কুরুষা-ফেরুষা থেকে খলিশা কোটালের রাস্তা বিষয়ে জানতে চাইলে এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, এই রাস্তাটি এলজিইডির গেজেড ভুক্ত হয়ে গেছে এবং কাগজপত্রও রেডি হয়ে আছে । আমরা এমপি মহোদয়ের নিকট গিয়েছিলাম, উনার ফান্ডে এ বিষয়ে বর্তমানে কোন বরাদ্দ নেই । বরাদ্দ আসলে এ উপজেলার সর্ব প্রথম কুরুষা-ফেরুষা থেকে খলিশা কোটালের রাস্তাটির কাজ শুরু হবে । তিনি আরও বলেন, আমরা অন্য ফান্ড থেকেও এ রাস্তাটি করার জন্য খুব চেষ্টায় আছি । ‍

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved © 2023 English Bangla
Theme Customized BY WooHostBD