1. admin@englishbangla24.com : admin :
 শিক্ষকরা মেয়েকে পড়াতে না চাওয়ায় ,স্কুল খোলেন মা - English Bangla 24
শুক্রবার, ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৪, ১০:২৩ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম:
লালমনিরহাটে যথাযোগ্য মর্যাদায় ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন লালমনিরহাটে মাদক বিরোধী অভিযানে আটক ৫ মোহাম্মদ জমির উদ্দিন এর সংক্ষিপ্ত জীবন বৃত্তান্ত;- আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে ভোট গ্রহণ কর্মকর্তাগণের প্রশিক্ষণ কর্মশালায় মতিয়ারের নৌকা প্রতিকে ভোট দেয়ার প্রকাশ্যে সমর্থন দিলেন ইস্কন ভক্তরা লালমনিরহাটে হরিজন সম্প্রদায়ের সাথে মতবিনিময় সভা ফুলবাড়িতে স্কুল ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে ধর্ষক গ্রেফতার নৌকাই ভরসা, সেটা মাথায় রাখতে হবে- হাসিনা দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে লালমনিরহাটে পৃথক তিন আসনে ১৯ প্রার্থী ভোটের মাঠে লালমনিরহাট থেকে যারা প্রার্থীতা প্রত্যাহার করলেন

 শিক্ষকরা মেয়েকে পড়াতে না চাওয়ায় ,স্কুল খোলেন মা

Reporter Name
  • Update Time : বুধবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৩
  • ২০৭ Time View


ডেস্ক: কুড়িগ্রামের চিলমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সিনিয়র স্টাফ নার্স তিনি। কোন দিন রোগীকে অবহেলা করার কথা শোনাও যায়নি। অথচ নিজের প্রতিবন্ধী মেয়েকে (কন্যা) তাড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল এক স্কুল থেকে। সেই বেদনাবোধ থেকেই রিকতা আখতার বানু ব্রহ্মপুত্র মেয়ের জন্য মায়ের স্কুলনদের পারে গড়ে তুলেছেন বিশেষ ধরনের এক শিক্ষায়তন।

প্রায় ৩০০ শিক্ষার্থী আর অভিভাবকের ভরসার স্থান হয়ে উঠেছে রিকতা আখতার বানুর (লুত্ফা) বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী স্কুল। এরই মধ্যে এটি এমপিওভুক্ত হয়েছে। ২১ জন শিক্ষক-কর্মচারী বেতন-ভাতা পান।

স্কুলটি প্রতিষ্ঠার পেছনে আছে দুঃখিনী মা রিকতা আখতার বানুর ক্ষোভ আর বেদনার করুণ গল্প।

বাবাউকবাইআরিকতার মেয়ে তানভীন দৃষ্টি মনি বাকপ্রতিবন্ধী। ২০০৮ সালে ইউপি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে তাকে ভর্তির চেষ্টা করেন রিকতা। অনেক অনুরোধের পর তানভীন দৃষ্টি মনিকে ভর্তি করানো সম্ভব হয়েছিল। কিন্তু কয়েক দিন পর তাকে আর পড়াতে চাননি শিক্ষকরা।

রিকতা বানু বলেন, ‘খোঁজ নিয়ে জানলাম, প্রতিটি স্কুলে প্রতিবন্ধীদের জন্য পাঁচটি আসন রয়েছে। অনেক পীড়াপীড়ি করে মেয়েকে ভর্তি করাতে পারলেও কয়েক দিন পরে ওকে তাড়িয়ে দেওয়া হয় স্কুল থেকে। ভাবলাম, আমার মতো অনেক অভিভাবক তাঁর সন্তানকে নিয়ে এমন বিপদে নিশ্চয়ই পড়েছেন। তাই নিজেই স্কুল করার উদ্যোগ নিলাম।’ ২০১০ সালে স্কুল তৈরির কাজ শুরু করেন রিকতা।

এগিয়ে আসেন তাঁর স্বামী। স্কুলের নামে দান করেন ২৬ শতক জমি। এরপর নিজেদের অর্থায়নেই দোচালা একটি টিনের ঘর তোলেন। চারজন শিক্ষককে নিয়ে যাত্রা শুরু করে রিকতা বানুর স্বপ্নের স্কুল।

রিকতা বানুর স্কুল থেকে ব্রহ্মপুত্র নদের দূরত্ব ৪০০ মিটারেরও কম। রমনা ঘাট থেকে কুড়িগ্রাম অভিমুখী সড়কের পাশেই রমনা গ্রামে আধাপাকা ভবনে চলছে স্কুলের কার্যক্রম। থানাহাট, ডাওয়াইটারি, জোড়গাছ, গুরাতিপাড়া, সরকারপাড়াসহ ব্রহ্মপুত্রপারের বিভিন্ন গ্রাম থেকে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুরা আসে এখানে। কেউ কেউ আসে পাঁচ-ছয় কিলোমিটার দূর থেকে। তাদের আনা-নেওয়ার জন্য রয়েছে তিনটি ভ্যান। প্রাক-প্রাথমিক থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত পড়ানো হয় স্কুলটিতে।

শাহীন শাহ, রুজিনা, মহসিন ও লতিফা আক্তার নামের চারজন শিক্ষক স্বেচ্ছাশ্রম দিয়ে একসময় প্রতিবন্ধীদের প্রাথমিক পাঠ দিতেন। এখন প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ২১ জন শিক্ষক-কর্মচারী শিশুদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে কাজ করছেন। নানা কৌশলে শেখাচ্ছেন পড়াশোনা। পাশাপাশি ফেসিয়াল মাসাজ, স্পিচ থেরাপিসহ নানা থেরাপির মাধ্যমে এগিয়ে নিচ্ছেন এই শিশুদের। প্রধান শিক্ষক শাহীন শাহ জানান, খেলার সামগ্রী এবং আরো কিছু সরঞ্জাম দরকার তাঁদের। প্রয়োজন নিয়মিত প্রশিক্ষণের। এখানে বিশেষ ধরনের শিক্ষা দেওয়া হয়। তবে একীভূত শিক্ষার ব্যবস্থা না করলে সমাজের মূলধারায় জায়গা করে নিতে এই শিশুদের সমস্যা হবে। তাই কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি জরুরি।
৬৩ জন বুদ্ধিপ্রতিবন্ধীকে নিয়ে যাত্রা শুরু হয় স্কুলটির। তখন শিক্ষার্থীদের দুপুরের নাশতার টাকা এবং অন্যান্য খরচ জোগাতে রিকতা বানু সংসারের বাজেট কাটছাঁট করেছিলেন। স্কুলটি এমপিওভুক্ত হওয়ার পর শিক্ষক-কর্মচারীরা সেই দায়িত্ব নিয়েছেন। তাঁরা চাঁদা দিয়ে শিক্ষার্থীদের দুপুরের নাশতা দেন। তবে এখনো সপ্তাহের এক দিন আর বিশেষ দিনে নাশতা কিংবা দুপুরের খাবারের ব্যবস্থা করেন রিকতা বানু। শিশুদের তিনি মায়ের আদরে বড় করছেন। রিকতা বানুর কথা, ‘এরা সবাই আমার সন্তান, এদের জন্য সব সময় মন কাঁদে, মায়া লাগে। তবে আমার স্বামী পাশে না থাকলে এত দূর আসা সম্ভব হতো না।’

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved © 2023 English Bangla
Theme Customized BY WooHostBD